Hello World
যোগাযোগ

কুষ্টিয়া

সারপ্রাইজের কথা বলে প্রেমিকার চোখ বেঁধেছিল প্রেমিক তারপর হত্যা!

Published

on

আপনের ছবি

একটি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন শিরোনামে নীচের লেখাটি প্রাকাশ হয়েছে কুষ্টিয়ার মিরপুর সংশ্লিষ্ট একটি ফেসবুক একাউন্টে। বৃহস্পতিবার তরুণ এক খুনির স্বীকারোক্তি উল্লেখ করে সেখানে বর্ননা করা হয়েছে এক কিশোরীর নির্মম মৃত্যুর হতভম্ব গল্প।

উম্মে ফাতেমা ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। আরেকদিকে তরুন আপন মিরপুর উপজেলার আমলা সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী। দু’জনের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের একপর্যায়ে ফাতেমা আপনকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু পারিবারিক সিদ্ধান্ত আর নিজের ইচ্ছা আপনকে বিয়ের দিকে এগিয়ে নেয়নি। এদিকে, বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে বসে ফাতেমা। কড়া করে জানিয়ে দেয়– মরার সময় নাম লিখে যাবে আপনের। বখে যাওয়া আপন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে এসবে। কৌশলে ফন্দি আঁটে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফাতেমা কে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার। মঙ্গলবার দিনগত রাতে মোবাইল ফোনে ফাতেমাকে ডেকে নেয় আপন। কথা হয়, মাইক্রোবাসে চেপে রাতেই দিবে পাড়ি, বাঁধবে সুখের ঘর, আর তার জন্যই ভোর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ফসলের মাঠে। আগে থেকেই ঠিক করে রাখা প্রথম পছন্দের জায়গায় লোকজনের আনাগোনায় বেছে নেয় দ্বিতীয় পছন্দ ভুট্টার ক্ষেত।

রাত তিনটার পর কোন একসময় সারপ্রাইজের নিবেদনে ফাতেমার চোখ বেধে দেয় আপন। পরপরই শুরু হয় আপনের কিলিং মিশন। সাথে থাকা ধারালাে অস্ত্র দিয়ে, কুপিয়ে, খুঁচিয়ে, নানা ভাবে নির্মম নির্যাতন করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ফাতেমার।

প্রেমিকা হত্যার আলামত নষ্ট করতে– হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ভেঙ্গে দুখণ্ড করে ফেলে দেয় আলাদা দুই জঙ্গলে। পুড়িয়ে ফেলে ওড়না।

কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার জনাব খাইরুল আলমের সরাসরি নির্দেশনায় ও সরজমিন তৎপরতায় অনতিবিলম্বে আসামি আপনকে আটক করে পুলিশ। ইতোমধ্যেই আদালতে অভিযোগ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে আপন।

শিক্ষনীয় বিষয় উল্লেখ করে পোস্টটিতে আরও লেখা হয়েছে

★ টিনেজার ছেলেমেয়েদের আবেগের বশবর্তী হয়ে প্রেমিকের হাত ধরে কখনোই রাত্রে বাড়ির বাইরে যাওয়া উচিত নয়।

★ পিতা-মাতার অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে ছেলেমেয়েরা কার সাথে মিশছে বা কোন মাদকাসক্ত ছেলেদের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে কিনা।

★ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে যেন পড়াশোনা বাদ দিয়ে এখানে অত্যধিক সময় অপচয় না করে।

★ অধিক রাত্রে কখনোই কারো ডাকে দরজা খোলা বা বাড়ির বাইরে যাওয়া উচিত নয়।

★ কম বয়সী বাচ্চাদের এন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারে অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়া উচিত।

★ আপনার বাচ্চার ফোনে কোন ভিপিএন (VPN) সফটওয়্যার ব্যবহার করছে কিনা সেটি খেয়াল রাখবেন।

★ যদি বাচ্চাদের এন্ড্রয়েড ফোন দিয়েই দেন তাহলে অবশ্যই i-sharing সফটওয়্যারের মত অ্যাপস ব্যবহার করে নিজের ফোনে লোকেশন শেয়ার করে রাখবেন তাহলে সর্বদাই আপনার সন্তানের অবস্থান সম্পর্কে অবগত থাকতে পারবেন।

পোস্টটিতে জেলা ও রেঞ্জ পুলিশের উর্ধতনদের ভুয়সী প্রশংসা করেন সংশ্লিষ্ট থানার ওসি।

Click to comment

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দৌলতপুর

 

কুষ্টিয়া

জাতীয়

খেলাধুলা

আরো খবর

Design and Developed by TechEpoka