Hello World
যোগাযোগ

ব্রেকিং

ঢাকায় সাংবাদিকের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

Published

on

খবরের ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর এলাকায় আবারও এক সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দৈনিক প্রথম আলো’র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আসিফ হাওলাদার হিমাদ্রীকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ল্যাব এইড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এর আগে বিকেল ৫টার দিকে টিএসসি এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন বাংলা ট্রিবিউনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আবিদ হাসান রাসেল। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে তাকে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ছাত্রলীগের হামলার শিকার আসিফ হিমাদ্রী জানান, সন্ধ্যায় টিএসসি এলাকায় বাম সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত অবস্থা তৈরি হয়েছিল। এক পর্যায়ে বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভিসি চত্বরের পাশে ফুলার রোডের একটি বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে ভিসি চত্বর দিয়ে ফুলার রোডে গিয়ে যে বাসায় বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছিল সেখানে জড়ো হয়। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই বাসা লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দরজায় লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে।

আসিফ হিমাদ্রী জানান, তিনি এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক পর্যায়ে কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রথম আলো’র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেন। কিন্তু ছাত্রলীগের মারমুখী নেতাকর্মীরা তাকে গালাগাল শুরু করলে তিনি ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেতা সাদ্দামের কথা বলেন। কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত না হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রথমে তাকে বেধড়ক কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে লাঠি হাতে মারতে মারতে তাকে মাটিতে শুইয়ে ফেলে। পরে ছাত্রলীগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আল-আমিন তাকে উদ্ধার করেন।

আসিফ জানান, আল-আমিন তাকে উদ্ধার না করলে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলতো। মারধরের সময় তিনি এসএম হলের ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান পিকুল ও মিলন খানকে চিনতে পেরেছেন। বাকিদের কাউকে চিনতে পারেননি। তারা মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে তার ধারণা। আসিফ জানিয়েছেন, মারধরের পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার আইডি কার্ড ও তিন হাজার টাকাসহ একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

এদিকে বাংলা ট্রিবিউনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আবিদ হাসান রাসেল জানান, তিনি টিএসসিতে বাংলাদেশের জনগণ নামে একটি সংগঠনের মোদিবিরোধী কর্মসূচী কাভার করছিলেন। বিকাল ৫টার দিকে হঠাৎ একদল ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সেখানে এসে অনুষ্ঠানের ব্যানার কেড়ে নিয়ে আয়োজকদের ধাওয়া দেয়। এসময় আবিদ হাসান মোবাইল ফোনে কয়েকটি ছবি তোলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি উৎপল দাস, জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হাওলাদার হামলায় অংশ নেন।

আবিদ হাসান জানান, মারধরের আগে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু সাংবাদিক শুনে আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে আইডি কার্ড ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

ছাত্রলীগের এসব হামলার বিষয়ে মন্তব্য জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলি নাহিয়ান খান জয়কে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভিসি চত্বরে হামলায় প্রথম আলোর সাংবাদিক ছাড়াও বাম সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে উজ্জল বিশ্বাস, কামরুল হাসান, অর্ণব, মাইনুল, নাঈম, সাকিব আব্দুল্লাহ, মাইন আহমেদ, রুবেল হোসেন, মাহমুদা দিপা, রাফিন জয়, মাহমুদ, আরিফ ও সজিবকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার ৫০ বছর ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামীকাল (২৬ মার্চ) ঢাকায় আসবেন। বাম সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন গত কয়েকদিন ধরেই মোদিবিরোধী আন্দোলন করে আসছিলেন।

Click to comment

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দৌলতপুর

 

কুষ্টিয়া

জাতীয়

খেলাধুলা

আরো খবর

Design and Developed by TechEpoka